ব্রেকিং নিউজ : রোজা ৩০ নাকি ২৯ টা হবে জানা গেল
এবারের (১৪৪৭ হিজরি সন) পবিত্র ঈদুল ফিতর বাংলাদেশে ৩০ রোজা পূর্ণ করে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) উদযাপিত হতে পারে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের নবচন্দ্রের জন্ম হবে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ২৩ মিনিটে, যা বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২৩ মিনিট।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এ বিষয়ে বিশ্লেষণ প্রদান করে বলেন, ওইদিন ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় আকাশে নতুন চাঁদ অবস্থান করলেও এর বয়স হবে মাত্র ১০ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। ঢাকার আকাশে চাঁদ অস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে, অর্থাৎ সূর্যাস্তের প্রায় ২২ মিনিট পর। তবে এত কম বয়সের নবচন্দ্র খালি চোখে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ কারণে বলা যায়, সেদিন বাংলাদেশে চাঁদ দেখা না যাওয়ার ঘোষণা আসতে পারে এবং ৩০ রোজা পূর্ণ করে ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। সে ক্ষেত্রে চলতি রমজান মাসে বাংলাদেশে পাঁচটি শুক্রবার পড়বে।
এদিকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ১৯ মার্চ সূর্যাস্তের সময় মক্কার আকাশে নবচন্দ্রের বয়স হবে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ৮ মিনিট। সেখানে চাঁদ সূর্যাস্তের প্রায় আধা ঘণ্টা পর অস্ত যাবে। ফলে সৌদি আরবে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
চাঁদপুরসহ দেশের কিছু এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ২০ মার্চ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। তারা সাধারণত সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে অনুসরণ করে থাকেন।
অন্যদিকে তুরস্কে বাংলাদেশের সঙ্গে একই দিনে রোজা শুরু হলেও দেশটিতে ঈদ একদিন আগে উদযাপিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তুরস্কে ২৯টি রোজা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঈদের তারিখ ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া
আগামী ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল। কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং চাঁদ দেখার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এসব সংস্থা অস্ট্রেলিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নতুন বাঁকা চাঁদ (হিলাল) পর্যবেক্ষণ নিয়ে কাজ করে। ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিন হবে।
কাউন্সিল আরও জানায়, সূর্যাস্তের আগে সুনির্দিষ্ট জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার ভিত্তিতে চাঁদের জন্ম হওয়া, সূর্যাস্তের পর তার দৃশ্যমান থাকার সময়কাল এবং অস্ট্রেলিয়া ও আশপাশের অঞ্চলে সেটি দেখা যাওয়ার সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে ঈদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রমজানের শুরু ও শেষ, শাওয়াল মাসের সূচনা এবং ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণ করে অস্ট্রেলিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি এবং অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই মানদণ্ড বিশ্বের বিভিন্ন স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক ও ফিকহভিত্তিক পরিষদ এবং ইসলামি সংস্থাও অনুসরণ করে থাকে।

Comments
Post a Comment