আলহামদুলিল্লাহ --- ব্রেকিং --- ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে তারিখ ঘোষণা করলো বিএনপি সরকার
আগামী অক্টোবরকে সামনে রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে। এ লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের জন্য পৃথক খসড়া কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) তৈরি করেছে ইসি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে পারে হাওর অঞ্চল দিয়ে।
এসব প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচন আচরণবিধিমালা, নির্বাচন আইন, নির্বাচন বিধিমালা, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচনি দ্রব্যাদি সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রস্তুতির কাজও সমানতালে এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে হতে পারে ভোটগ্রহণ
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ১ অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে কিনা জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফার্স্ট উইকেই ধরেন। অক্টোবর ধরে যখন বলেছি, তখন মনে করেন ফার্স্ট উইকেই নির্বাচন শুরু হবে। নির্বাচন আগানো যায় না, আগানো অনেকটা অসুবিধা। পেছনে গেলে কোনও অসুবিধা নেই।’
অক্টোবরে নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকলেও স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের মধ্যে কোনটির নির্বাচন আগে হবে, তা নিয়ে সংশয় ছিল। এ প্রসঙ্গে গত সোমবার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা বলেছি, কোন ইলেকশন বেশি প্রয়োজন। এখন সবগুলো পেন্ডিং, সবগুলো তো একত্রে করা যাবে না। কোনটা বেশি দরকার? মানুষের উপকার কোথায় বেশি হয়? কোথায় মানুষ অসুবিধা ভোগ করছে? সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আমাদের কিছু আলাপ-আলোচনা হবে এবং তার ভিত্তিতেই আমরা নির্বাচনের সব ধরনের তফসিল ঘোষণা করবো।’
কোন নির্বাচন আগে হবে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সব প্রতিষ্ঠান খালি আছে। আইনের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। এখন সব নির্বাচন যেহেতু একত্রে আসছে, তাই আইনের বাধ্যবাধকতা পালন ওইভাবে সম্ভব হবে না। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সব নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারি। তবে এটা বুঝতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা থেকে নির্বাচন শুরু হওয়া বাস্তব ক্ষেত্রে অধিক যৌক্তিক। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন তো প্রশাসক দিয়ে চলছে।’
হাওর অঞ্চল দিয়ে শুরু হতে পারে নির্বাচন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের খসড়া কর্মপরিকল্পনায় (রোডম্যাপ) সারা দেশকে চারটি ক্লাস্টার বা জোনে ভাগ করে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। জোনগুলো হলো—হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চল।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের (সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জের একাংশ) জন্য নির্বাচনের উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর। এ সময় পানি থাকায় নৌপথে চলাচল সহজ হয় বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল—রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, হাতিয়া, সন্দ্বীপ ও বরিশালের উপকূলীয় এলাকায় বর্ষাকালে পাহাড়ধস, অতিবৃষ্টি এবং সমুদ্রে নিম্নচাপ ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থাকে। তাই এসব অঞ্চলে নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত সময় ধরা হয়েছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি।

Comments
Post a Comment